আরো একটু অন্যভাবে দোল হোলির ব্যাখ্যা

আরো একটু অন্যভাবে দোল হোলির ব্যাখ্যা

Mar 25, 2024
দোল শব্দটির সাথে রঙ এবং প্রেম অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে যুক্ত। প্রেমই তো কারণ ওইদিন বৃন্দাবনে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ রাধিকা ও অনান্য গোপিগণের সঙ্গে রঙ খেলায় মেতেছিলেন। তারপর থেকেই নাকি দোল উৎসব বা দোল পূর্নিমার প্রচলন। ফাল্গুন মাসের পূর্নিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। দোলের আগের দিন হয় নেড়াপোড়া বা হোলিকা দহন। কথিত আছে অসুর রাজা হিরণ্যকশিপুর একসময় ব্রহ্মার দ্বারা অমরত্ব লাভ করেন এবং জনজাতির উপর অত্যাচার শুরু করেন। এমনকি একসময় তার বোন হোলিকার সাহায্য নিয়ে নিজের পুত্র প্রহ্লাদকে আগুনে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন। সেসময় শ্রীবিষ্ণু নৃসিংহ রূপ ধারণ করে হিরণ্যকশিপুরকে বধ করেন।ফলে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে।হোলিকা দহন বা নেড়াপোড়া এই ঘটনাকেই নির্দেশ করে। দোল উৎসবের পরের দিন পালিত হয় হোলি। শোনা যায় পার্বতীর অনুরোধে কামদেব শিবের ধ্যান ভঙ্গ করতে উদ্যত হয়ে শিবের তৃতীয় চক্ষুর তেজদীপ্ত চাহনিতে ভস্মীভূত হন। পরবর্তী সময়ে কামদেবের স্ত্রী রতি কামদেবকে ফিরে পাওয়ার জন্য শিবের কাছে প্রার্থনা করেন ও ফিরে পান। প্রেমের দেবতার এই ফিরে আসাই হোলি উৎসব হিসাবে পালিত হয়। শান্তিনিকেতনে এটি আবার বসন্ত উৎসব নামে পরিচিত। বসন্তের আগমন উপলক্ষে এইদিনটি শান্তিনিকেতনে নাচ, গান, নাটক সহযোগে পালন করা হয়। যা বর্তমানে প্রায় সব জায়গাতেই আমরা পালন করতে দেখি। দোল হোক বা হোলি, সমস্ত উৎসবের মতো এটিরও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য আছে। এই উৎসব লিঙ্গ-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে সমস্ত বিবাদ ভুলে একত্রিত করে এবং এক অনাবিল আনন্দে মাতিয়ে তোলে।
লেখা- সংযুক্তা বড়াল
অঙ্কন- মঞ্জিরা মাইতি Class-(i)