বিনোদ বিহারি মুখোপাধ্যায় (৩)

বিনোদ বিহারি মুখোপাধ্যায় (৩)

Apr 25, 2024

আর এক ধরনের অভিজ্ঞতাও বিনোদবিহারীকে ঋদ্ধ করেছিল। তা হল, রবীন্দ্রনাথকে জানা। যদিও তাঁর খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ বিনোদবিহারীর বিশেষ হয়নি, তবে বিদ্যালয়ের ছাত্র বা পরবর্তী কালে কর্মী হওয়ার সুবাদে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর প্রায়ই দেখা হত। এখানেও তিনি সেই একলব্য। শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্যাশ্রম বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের অনুমতিতে। তার পরে কলাভবনে যোগ দিয়ে তিনি যখন নন্দলালের বিরক্তির কারণ হয়েছেন, একদিন রবীন্দ্রনাথ কলাভবনে এসে নন্দলালকে বলেছিলেন, “যদি ও নিয়মিত আসনে বসে এবং মনোযোগ দিয়ে কাজ করে তবে ওকে স্থানচ্যুত কোরো না। ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা কোরো না। সকলকে নিজের পথ খুঁজে নিতে দাও।” শিল্পীর পথ খুঁজতে রবীন্দ্রনাথই তাঁকে পরোক্ষে সাহায্য করেছিলেন।Painting

দারিদ্র্য আর একাকিত্ব বিনোদবিহারীকে আজীবন ছায়ার মতো অনুসরণ করেছে। শান্তিনিকেতন আবাসিক জীবনেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবু তারই মধ্যে তাঁর শিল্পী-পরিচয় নন্দলাল, অবনীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথ একটু একটু করে পেয়েছিলেন। তাই নন্দলালই একদিন ছাত্র বিনোদকে পাঠিয়েছিলেন কলকাতার জোড়াসাঁকোয়, সেই পর্যায়ে আঁকা তাঁর কিছু ছবি অবনীন্দ্রনাথকে দেখাতে। জোড়াসাঁকোয় গিয়ে তিনি দেখা করেছিলেন তিন ভাই অবনীন্দ্র, গগনেন্দ্র ও সমরেন্দ্রর সঙ্গে। এক সময়ে অবনীন্দ্রনাথ প্রদর্শনীতে তাঁর নিজের ছবির পাশে

Paintings

 ছাত্র বিনোদের ছবি ঝুলিয়ে তাঁকে বুঝতে সাহায্য করেছিলেন, কোথায় কোন ত্রুটি রয়েছে। তার পরে অবশ্য অবনীন্দ্রনাথ চিনে ফেলেছিলেন তরুণ এই শিল্পীকে। তাই অবলীলায় বিনোদবিহারীর প্রথম দিকের আঁকা ‘শীতের সকাল’ ছবিটি তিনি প্রবাসীতে ছাপিয়েছিলেন তাঁর ‘ত্রয়ী’ ছবির সঙ্গে।