বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়
বিনোদবিহারীর জন্ম ১৯০৪ সালের সাত ফেব্রুয়ারি, কলকাতার বেহালা অঞ্চলে। তাঁদের আদি বাড়ি ছিল হুগলির গরলগাছায়। শৈশবে কঠিন অসুখে দৃষ্টি শক্তি ক্ষীণ হয়ে যায়। পড়াশোনা বন্ধ হয়। সকাল থেকে ফেরিওয়ালার হাঁক, বাঁশির শব্দ, চুড়িওয়ালার কাছে থেকে কেনাকাটা দেখা এইভাবেই সময় কাটতো। এক সময় শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের স্কুলে ভর্তির সুযোগ

বড় দুই দাদার সঙ্গে ছোট্ট বিনোদ (মাঝে)
হয়। রবীন্দ্রনাথের কথায় নন্দলাল বিনোদকে ক্লাস নিতে বাধ্য হন। প্রথমদিকে নন্দলাল বিনোদ কে মোটেই পছন্দ করতেন না। চোখে কম দেখে এ কিভাবেই ছবি আঁকবে এই ভাবনা থেকেই ক্লাসে বিনোদের দিকে ফিরেও চাইতেন না। কিন্তু তবু তিনি হাল ছাড়েননি। তিনি ছিলেন গুরু নন্দলালের একলব্য। আপন খেয়ালে যা মন চায় তাই আঁকতেন। যেমন শুক্লপক্ষের রাতে বড় একটি কাগজ গাছের তলায় রেখে, তাতে পড়া চাঁদের আলোয় গাছের ছায়া ধরে কাঠকয়লা দিয়ে ছবি আঁকার আশ্চর্য ভাবনা একান্ত ভাবে তাঁরই নিজস্ব ছিল। সকলে যখন ‘রোমান্টিক ও পৌরাণিক ছবি’ এঁকে অসিতকুমার হালদার, নন্দলাল ও অবনীন্দ্রনাথের উত্তরসূরি হয়ে তাঁদের ‘বিদ্যে ধরার’ চেষ্টা করছেন, একাকী এক ছাত্র তখন শান্তিনিকেতনের প্রান্তরে নানান দৃশ্য, সাঁওতাল, রুক্ষ দিগন্ত, বিস্তৃত খোয়াই, তালখেজুরের সারির সৌন্দর্যে মগ্ন।