বর্ষার বিকালে
শিঞ্জিনী ভৌমিক (খ বিভাগ)
বর্ষার দিনে বিকালে আমি আমার এক বন্ধুর বাড়ি গিয়েছিলাম, যাওয়ার পর দেখি আকাশে কালো মেঘ উঠে বিদ্যুৎ এর চমক দিচ্ছে তাই দেখে আমি কাজ মিটিয়ে খুব তাড়াতাড়িই বাড়ির দিকে রওনা দিই কিন্তু রাস্তায় নামল মুষলধারায় বৃষ্টি। আমার কাছে কোনো ছাতা বা রেনকোট ছিল না। তাই দৌড়াতে দৌড়াতে এসে একটা পোড়ো বাড়িতে দাঁড়াই। কিন্তু সেই জায়গাটি ছিল খুব বিপদজনক আর ভয়ঙ্কর, ঘরের মধ্যে থেকে বেশ কিছু আওয়াজ আসছিল। কয়েকটি বাদুড় উড়ে বেরিয়ে গেলো আমার মাথার ওপর দিয়ে । আর ক্রমশ ঘরের মধ্যে অন্ধকার হয়ে আসছিল। তাতে আমার ভয়ও ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছিলো, তার সঙ্গে বিদ্যুৎ এর চমকানি । আমার তখন মনে হচ্ছিল আমি আর বোধ হয় বাড়ি ফিরতে পারবো না। আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। তখনই ছুটতে শুরু করি। সেই সময় দেখি দূর থেকে একজন কেউ আসছে । আমি এক ছুটে তার কাছে যাবার চেষ্টা করতেই হোঁচট খেয়ে পড়লাম। তারপর চোখ খুলতে দেখি আলো ঝলমলে একটা বাড়ির ভিতরে আমি। আরে এ তো আমার বাড়িতেই। বাবা-মা এবং পাড়ার দু এক জন আমার চারপাশে বসে। কি হলো? কি হয়েছিল আমার। তারপর বাবা বলল আমরা তো সেটাই জানতে চাইছি কি হয়েছে তোর। তারপর আমার সব মনে পড়ল, আমি বললাম সব। মা বলল ঝড় বাদলের দিনে কেন বেরিয়েছিলিস? বাবা বলল অন্ধকার তাই ভয় পেয়েছিস ওসব কিছু নয়। কিন্তু আমার মনের ভিতরের ভয় তখনও কাটছিল না। কি ছিল এই ঘরের ভেতর এটাই খালি মনে হচ্ছিল। পরে বুঝতে পারলাম কেউ একজন আসছিল সেটা আর কেউ নয় আমার দেরি দেখে বাবাই ছাতা ও টর্চ নিয়ে আমার খোঁজেই বেরিয়েছিল।
ছবি - সৌমেন দাশ