ছেলেবেলার গল্প
মনে আছে, আমি তখন ক্লাস থ্রিতে পড়ি। প্রার্থনা হয়ে যাবার পর যখন ক্লাসে এসে বসতাম বেঞ্চে আমার ব্যাগের ওপর কমপক্ষে বারো থেকে পনেরো বা কুড়িটা অঙ্কের খাতা সাদা পাতা খুলে খাতার ওপর খাতা চাপিয়ে বন্ধুরা দিয়ে গেছে। এটা একদিনের ঘটনা নয় প্রতিদিনের ঘটনা। আমিও জানতাম কেন এই খাতা জমা পড়েছে। প্রার্থনা ও প্রথম পিরিয়ডের মাঝে স্যার আসার আগে পর্যন্ত যে সময় টুকু থাকে ওই সময়টুকুতে আমাকে এই খাতায় একটি করে সিনারি এঁকে দিতে হবে। আমি ঝটপট একটি করে খাতা নিচ্ছি আর একটি করে সিনারি একপাশে রাখছি। একটু অদল বদল ঘরবাড়ি, গাছ, দিগন্ত আর কি আকঁতাম মনে নেই। তবে মনে আছে দিগন্ত রেখা, বলা যায় খ্যাস খ্যাস করে এঁকে ফেলতাম। সেকি স্পিড। ক্লাসের বন্ধুদের দাদা বা কখনো সখনো অভিভাবকেরা ক্লাসে এসে খুঁজতেন যে, কে রোজ সুন্দর সুন্দর ছবি এঁকে দেয় ওদের খাতায়। সে ছবি আহামরি কিছু ছিল না তবে এটা মনে করে ভালো লাগে ছবি আমাকে তখন থেকেই একটা আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তবে তখন ছবি আঁকার প্রচলন এতটা ছিল না, এত মাস্টারমশাইও ছিল না। কিন্তু একথা বলাই যায় প্রকৃত শিক্ষক তখনো ছিল হাতে গোনা, এখনো তাই।