দোলযাত্রা বা হোলিউৎসব
দোলযাত্রা বা হোলি রঙের উৎসব, বসন্তের উৎসব এবং প্রেমের উৎসব নামে পরিচিত । হিন্দু ধর্মের অন্যতম জনপ্রিয় উল্লেখযোগ্য উৎসব, এটির উদ্ভব ভারতীয় উপমহাদেশে এবং এটি পশ্চিমা বিশ্বের কিছু অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী ১৮৮৬ সালে ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপিগণের সঙ্গে রং খেলায় মেতে ছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয় । দোল উৎসবের অনুষঙ্গে ফাল্গুনী পূর্ণিমা কে দোল পূর্ণিমা বলা হয়। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।হোলি হল হিন্দুদের একটি পবিত্র প্রাচীন ঐতিহ্য , অন্যান্য দেশে আঞ্চলিক ছুটির সাথে ভারত ও নেপালের অনেক রাজ্যেও ছুটির দিন। এটি একটি সাংস্কৃতিক উদযাপন যা হিন্দু এবং অ-হিন্দুদের একে অপরের দিকে রঙিন জল এবং আবির ছুঁড়ে রং খেলার ও আনন্দ করার সুযোগ দেয়। হোলি নিয়ে আরেকটি গল্প আছে যা ভালোবাসার জন্য আগুনে পুড়ে আত্মত্যাগ এর সাথে সম্পর্কিত। এই গল্পটি শিব ও কামদেবের। শিবের সাথে পার্বতীর বিবাহ হবার পূর্বে, পার্বতী শিবকে যোগ ও ধ্যান থেকে বাস্তব জগতে ফিরিয়ে আনবার জন্য বসন্ত পঞ্চমীর দিনে প্রেমের দেবতা কামদেবের সাহায্য প্রার্থনা করেন। কামদেব ও রতি শিবের ধ্যান ভঙ্গ করে পার্বতির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করানোর জন্য তার দিকে তীর ছোঁড়েন।কিন্তু ধ্যানে এই বিঘ্ন ঘটবার কারণে শিব তার তৃতীয় চক্ষু খোলেন এবং সেই চোক্ষুর তেজদীপ্ত চাহনিতে কামদেব দগ্ধ হয়ে ছাইয়ে পরিণত হয়। এই ঘটনায় কামদেবের স্ত্রী রতির বিমর্ষ হয়ে পড়ে।পরবর্তীতে শিব ও পার্বতির বিবাহের সময় রতি শিবের কাছে প্রার্থনা করেন যাতে কামদেবকে তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। শিব সম্মত হন, এবং কামদেবকে সত্যিকারের আবেগ এর একটি অবাস্তব সত্তা হিসেবে তাকে ফিরিয়ে দেন। প্রেমের দেবতার এই ফিরে আসা বসন্ত পঞ্চমি উৎসবের চল্লিশ দিন পর হোলি হিসেবে পালিত হয়।
লেখা- অনুষা কোলে
অঙ্কন- রুদ্র মাজি
লেখা- অনুষা কোলে
অঙ্কন- রুদ্র মাজি