ঈদুল আজহা
সংযুক্তা বড়াল
একবার ইব্রাহিম স্বপ্নাদেশ পেয়ে আল্লাহর কাছে নিজের পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি দিতে উদ্যত হন। আল্লাহ দৃঢ় সংকল্প সম্পন্ন ইব্রাহিমের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তার কোরবানি কবুল করে তার পুত্রের পরিবর্তে একটি দুম্বা (একটি পশু) কোরবানি মঞ্জুর করেন এবং ইব্রাহিমকে আশীর্বাদ প্রদান করেন। এই ঘটনার রেষ ধরেই প্রতিবছর ঈদুল আজহা বা কুরবানি ঈদ পালিত হয় যার মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা ইব্রাহিম ও ইসমাইলের মহান ত্যাগের পুণ্য স্মৃতি বহন করে চলেন।
হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিন ধরে চলে ঈদুল আজহার কুরবানি। এই দিন সকলে পরিশুদ্ধ হয়ে নতুন বস্ত্র পরে আল্লাহর কাছে নামাজ পড়ে এবং তার পর যে যার আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর নামে গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ বা উট কোরবানি করে। সাধারণত বাড়ির আর্নিং মেম্বার এই কোরবানি প্রদান করেন এবং কোরবানির আগে পর্যন্ত উপবাসে থাকেন। কোরবানির শেষে প্রথা অনুযায়ী কোরবানির মাংস তিনভাগে ভাগ করে গরীব, আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের প্রদান করেন। এটি একটি ত্যাগের উৎসব যার সাথে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা ও দর্শন। এটি আমরা প্রতীকী আচার হিসাবে ধরে নিতে পারি। যার প্রকৃত উদ্দেশ্য হল নিজের উচ্চাকাঙ্খা পরিত্যাগ করা বা মানুষের ভেতরে থাকা পাশবিক মানসিকতা, কাম- ক্রোধ, মোহ, পরনিন্দা ইত্যাদি ত্যাগ করা। তাই শুধু পশু নয় আমাদের প্রয়োজন পশুত্বের কোরবানি করা।