ঈশ্বর ও শিশু যন্ত্র
'ছবি আঁকা ঈশ্বর প্রদত্ত' এই কথা প্রায়শই শোনা যায়। একথা আমিও বিশ্বাস করি। দীর্ঘ ২৪ বছর ছবি আঁকা শেখানোর সাথে যুক্ত থেকে দেখেছি অনেক শিশুই নিজস্ব কল্পনাশক্তি নিয়ে এসেছে। কিন্তু আমরা বড়োরা দায়িত্ব নিয়ে শিশুর নিজস্বতা নষ্ট করি। বাবা-মা সাত তাড়াতাড়ি শিক্ষকের কাছে পৌঁছে দেন আর শিক্ষক -এর মতো না হলেই 'হয়নি' বলে বকাবকি শুরু করে দেন, ফলে হারিয়ে যেতে থাকে শিশুর নিজের সত্তা, হারিয়ে যেতে থাকে সৃজনশীলতা। আজকাল নামকরা স্কুলে ভর্তি বা পড়াশোনার সুবাদে সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠেই স্কুল, তারপর সেখান থেকে ফিরে নাচের ক্লাস, আঁকার ক্লাস, অ্যাবাকাস, আবৃত্তি, গান, সাঁতার, ক্যারাটে যে যতগুলোতে পারেন ভর্তি করিয়ে দেন। সব মিটিয়ে সন্ধ্যায় পড়ার টিউশন, তারপরে আবার ফিরে বাবা বা মায়ের কাছে অঙ্ক করা। একটা মেশিনকেও আমরা এভাবে চালাইনা, যেভাবে একটি শিশুর রুটিন বানিয়ে দিই। যার ফলেই তাদের মধ্যে হারিয়ে যায় নিজের সত্তা, হারিয়ে যায় চিন্তা করার ক্ষমতা। মুখস্থবিদ্যায় ভর করে বেশি দূরে যাওয়া যায় না। শিল্পকলার মধ্যে ছবি আঁকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তারা নিজের মতো করে স্বাধীন চিন্তা করতে পারে। শিক্ষক শুধু করণকৌশল নয় চিন্তা করতেও সাহায্য করবেন।