গোল গোল গোলমেলে সংস্কৃতি
(ড্যাস) বাংলা রঙিন চশমার মতো, পরে নাও সব রঙিন।
চকচক করলেই সোনা হয় না। কিন্তু চকচকে বস্তু চোখের নজর সহজেই কেড়ে নেয়। শিল্প সংস্কৃতিতেও চটকদারি সহজেই মন কাড়ে। একটা আবেশ তৈরি করে ডুবিয়ে রাখে আর মশগুল হয়ে উপভোগ করে আমজনতা। যেহেতু আমজনতাকে খুশি করতে পারলেই তাদের ব্যবসা লাভবান হবে তাই শিল্প সংস্কৃতি উচ্চাঙ্গ হলো কিনা (ড্যাস) বাংলার মতো চ্যানেলগুলোর তাতে কোনও মাথাব্যাথা নেই। বেশিরভাগ মানুষ কি খেতে চাইছে, খাইয়ে দেওয়াটাই তাদের লক্ষ্য। কোনও ভাবে একবার (ড্যাস)বাংলায় গিয়ে গান গাইতে পারলেই সে বর্তমানে সুপার গায়ক, সেলিব্রেটি। চটকদারির এই দুনিয়ায় একটু কানাঘুষা হলেও আমজনতা বিশেষ মাথা ঘামায় না। কত টাকার প্রয়োজন হয় প্রথম অডিশনে পাশ করার পরেও (ড্যাস) বাংলায় প্রথম গান গাইতে। (ড্যাস) বাংলাও প্রতিটি সিজনে এখন একজন করে গরিব প্রতিভাবানকে তুলে ধরে। তুলে ধরে তার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড। যেটা দেখিয়ে বাকিদের মাথায় কয়েত বেলটা ভাঙতে সুবিধা হয়। তারপর তো সুপার টুপার কয়েকজনকে সেলিব্রেটি বানিয়ে দিল, তারপর যতদিন আমজনতা তাদেরকে চাইবে একটা রফা হয়ে যায় যে তাদের মাধ্যম ছাড়া কোনও অনুষ্ঠান সে নিজে করতে পারবে না। তারপর হাড় মাংস খাওয়া শেষ যখন ছিবড়েটুকু অবশিষ্ট থাকে, তখন অবশ্য স্বাধীনতা পাওয়া যায়। যে কারণে প্রতি সিজনের নতুন নতুন সুপার গায়ক উঠে এলেও নতুন গান বা সুরের সংখ্যা কিন্তু নৈব নৈব চ। তারপর এই নতুন সেলিব্রেটিদের ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা কমতে থাকে, বেশিরভাগ জনকে আর খুঁজেই পাওয়া যায় না। তবে যোগ্যরা একটা জায়গা তৈরি করে বটে কিন্তু কজন (ড্যাস) বাংলা খ্যাত সেলিব্রেটি এই বিরাট সংগীত জগতকে সমৃদ্ধ করতে পেরেছে ?