কলেজ লাইফ

কলেজ লাইফ

Jun 15, 2024

গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের ভিতর থেকে পুকুর পাড়ের দিকের গেট। পুকুরটা এক চক্কর দিয়ে ওপারে গেলে ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম অর্থাৎ  জাদুঘরের পিছন দিক বা মিউজিয়াম ক্যান্টিন। আর এই পুকুর পাড় দিয়ে ঘুরে যেতে যেতে আরও কয়েকটি ক্যান্টিন পাওয়া যায়। প্রথমে পাওয়া যায় জি এস আই ক্যান্টিন, জি এস আইয়ের আবার তিনটি ক্যান্টিন। কলেজ বা মিউজিয়াম চত্বর পেরিয়ে বাইরে বেরোলে আরও দুটো ক্যান্টিন একটা এম এল এ ক্যান্টিন। এমএলএ ক্যান্টিন আবার দুটো। এমএলএ ক্যান্টিন ছাড়িয়ে আরও একটু এগিয়ে গেলে ভেষজ প্রয়োগ শালা ক্যান্টিন। মাস্টার ডিগ্রির সময় কোন ক্যান্টিনে কোন দিন স্পেশাল কি আইটেম হয় আমাদের একটা জানা রুটিন ছিল। ঠিক সেই বার গুলোতে সেই ক্যান্টিন গুলোতে যাওয়া হতো। টিফিন টাইম অনেকটা হলেও আমার আর মিলনের সময় খুব কম ছিল। দৌড়ে দৌড়ে গিয়ে খেয়ে আবার দৌড়ে দৌড়ে এসে কাজ শুরু করে দেওয়া হতো। মিলন ছিল আমার শত্রু। দুজনে রেষারেষি করে কাজ করতাম। এরকম শত্রু ছিল বলেই কলেজে প্রচুর কাজ হতো। আর এই শত্রু যেদিন আসত না সেদিনে কলেজে কাজে মনও লাগত না। তবে মাস্টার ডিগ্রির আগে বি ভি এ র সময় জি এস আই ক্যান্টিনেই খেতাম। এখানে সস্তায় খাবার পেতাম। ছ টাকায় সবজি ভাত, ৮ টাকায় ডিম ভাত, ১০ টাকায় মাছ ভাত, ১২ টাকায় মাংস ভাত। মাস্টার ডিগ্রির সময় একটু সচ্ছল ছিলাম। তাই ঘুরে ফিরে বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন ক্যান্টিনে খাওয়া-দাওয়ার কথা বেশ মনে পড়ে। প্রথম যেদিন এমএলএ ক্যান্টিনে গেলাম ওখানে আমি চারটে গোল পরোটা ও আলুর দম দাম ২০ টাকা , মিলনের তিনটে পরোটা অর্ডার করেছিলাম। মিলন কোনো রকমে দেড় খানা খাওয়ার পরে আর খেতে পারছে না। আমিও কোনো রকমে তিনটি খাবার পরে আর খেতে পারছি না এতটাই মোটা এবং বড় ছিল পরোটা। পরে গেলে আমি তিনটে পরোটা অর্ডার দিতাম এবং মিলন দুটো। মাংস ভাত খাবার ইচ্ছা হলে ভেষজ প্রয়োগ শালায় যেতাম ওখানের রান্নার দামটা ঠিকঠাক মনে হতো। কলেজ লাইফে প্রত্যেকেরই একটা আলাদা মজা থাকে । সেই সব দিনগুলো মনে পড়লে সকলেই মিস করি।