লোকো ছড়া
সা-রে-গা-মা- পা-ধা-নি
বোম ফেলেছে জাপানি।
বোমের মধ্যে কেউটে সাপ
বৃটিশ বলে বাপরে বাপ !
১৯৬৯ -এর গণ অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক আয়ুব খানের পতন হয়। নিচের ছড়াটিতে আয়ুবের পতনের চিত্রটি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে-
আয়ুব বেটা গরু চোর
বেড়া ভেঙে দিলো দৌড়।
ধরলো কেঠা ধরলো কেঠা
বীর বাঙালি! বীর বাঙালি!
১৯৭১-এর ২৫ শে মার্চের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের নায়ক টিক্কাখান এবং এর সময়কালকেও লৌকিক ছড়া চিহ্নিত করে রেখেছে-
ইলিশ মাছের তিরিশ কাটা বোয়াল মাছের দাড়ি,
টিক্কা খান ভিক্ষা করে বাংলাদেশের বাড়ি।
এর পরই শুরু হয় স্বাধীনতার জন্য মরণপণ যুদ্ধ। এ যুদ্ধ চলাকালে বাংলার সর্বত্র তাই স্বাভাবিকভাবেই ধ্বনিত হয়েছে-
বীর বাঙালি অস্ত্র ধর।
বাংলাদেশের স্বাধীন কর!
আশির দশকের শেষের দিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৯০-এ এসে ব্যাপক গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর পরই নিরপেক্ষতার জন্য প্রয়োজন দেখা দেয় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের। তখন রাজনৈতিক দলগুলো উদ্ভাবন করে-
এই মুহূর্তে দরকার
কেয়ারটেকার সরকার।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে বিভিন্নভাবে লোকছড়ার ব্যবহার লক্ষ করা যায়। স্লোগান থেকে শুরু করে পোস্টার, ফেস্টুন, দেয়াল লিখনেও ছড়া ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এভাবেই পরিবর্তিত এবং আবর্তিত হয়েছে আমাদের ছড়া সাহিত্যের ক্রমবিকাশের ধারা। বাংলাদেশের লৌকিক ছড়ায় যেমন ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়, তেমনি পাওয়া যায় সমাজের উত্থান-পতনের অনেক সামাজিক চিত্র। আর এসব তথ্য ও চিত্র থেকেই আমরা ছড়ার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস অনুসন্ধান করতে পারি।