লড়াই দিয়েই পথ চলা শুরু
ঠিক যেমন পছন্দ করি, যেভাবে সফট কালার ছবিতে ব্যবহার করতে শিখেছি, যে ছবির দিকে তাকালে চোখে আরাম লাগে কিন্তু প্রতিযোগিতায় সেরকম ছবি আসলে সেগুলো বাদ হয়ে যায়। ফার্স্ট সেকেন্ড থার্ড হয় কড়া বা অত্যাধিক কন্ট্রাস্ট কালার। ছোটদেরও খুব সুন্দর সাজানো কম্পোজিশন বা বিষয়বস্তু। কিন্তু ছোট্ট ছেলেটির মতো নয়, বড়দের ভাবনাচিন্তা। তখন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ফাস্ট হবার লক্ষ্যে সেই রকম ছবি আঁকার চেষ্টা করেছি বহু জায়গায়, ফার্স্ট সেকেন্ডও হয়েছি। সেই সব সার্টিফিকেট এখনো খুঁজলে পাবো। তারপর ২০০০ সালের শেষের দিকে ক্লাস ফোরের একটি মেয়ে আমার প্রথম ছাত্রী। তারপর ধীরে ধীরে বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী পেলাম এবং সেই বছর থেকেই ওই সকল ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে ছবি আঁকায় ভালো নাম্বার পেতে
সরস্বতী পূজা
থাকে। তাদের মুখে অন্যেরা শুনে এক দু বছরের মধ্যে আমার অনেকগুলি ছাত্রছাত্রী হয়। সে সময় স্কুলের বই দেখে আঁকাতে হতো, প্রতিযোগিতায় নাম দিলে সেই ছবি এঁকে দিতে হতো। এটা আমাকে প্রথম থেকেই আমার শেখানোর যে পদ্ধতি তাতে বাধা দিত। সবে ইলেভেনে পড়ছি, অভিভাবক অভিভাবীকারা আমাকে নাম ধরে ডাকতেন, ভাই বলতেন ফলে তাদের বেশি বোঝানোর সাহস বা সে শক্তি আমার ছিল না। ২০০৫ এ প্রথম মনে হল এলাকায় কোনো চিত্র প্রদর্শনী নেই, একটা চিত্র প্রদর্শনী করা দরকার। সে
অঙ্কনতীর্থের কলকাতায় আর্ট এক্সিবিশন
বছর প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হলো তারকেশ্বর আশীর্বাদ লজে। বড় ছাত্র ছাত্রী ছিল না। আমার দাদা এবং আমার এক ক্লাস ফ্রেন্ড ও আমি তিনজনে সারারাত ধরে ছবি ডিসপ্লে করা হয়। কাজ শেষ হতে যখন বাইরে বের হই দেখি চায়ের দোকানে চা হয়ে গেছে। চা খেয়ে বাড়ি এলাম। তারপর সারাদিন একাই প্রদর্শনী টাকে যতটা পেরেছি সাজিয়ে নিতে চেষ্টা করেছি। দিনটা ছিল সরস্বতী পুজোর দিন। দুপুর তিনটেয় ছিল ওপেনিং। সময় মতো পৌঁছে গিয়েছিলেন আমার স্যার শ্রী প্রদীপ প্রধান , ডক্টর রেণুপদ ঘোষ, আর জনজিৎ দা (চক্রবর্তী)। প্রথম বছর ৫০ জন ছাত্রছাত্রীর ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল। এদের মধ্যে ১০ জন সেরাকে নির্বাচন করে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক উপস্থিতির হার ছিল ৫০ শতাংশ। মাইক্রোফোন ধরলে হাত কাঁপতো। তাই পরিচালনার দায়িত্ব ছিল সেই বন্ধুর ওপর যে বন্ধু সারারাত ডিসপ্লেতে সাহায্য করেছিল। একসময় আমার নাম অ্যানাউন্স করে বলা হল সৌমেন রং তুলিতে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে ততটা কথা বলায় নয়। কিন্তু আজ এটুকু বলতেই হবে চারিদিকে যখন প্রতিযোগিতা সে জায়গায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন কেন? ঠিক কি বলেছিলাম মনে নেই, তবে বিষয়টা ছিল এরকমই- প্রতিযোগিতায় শিক্ষকদের শেখানো বুলি আওড়ে
চিত্রকলা প্রদর্শনী
ছেলেমেয়েরা ফার্স্ট সেকেন্ড হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় যে ছবি উঠে আসছে সেখানে নেই তাদের নিজস্বতা। এই প্রতিযোগিতা ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের না হয়ে হয় তাদের শিক্ষকদের। কার শিক্ষক কাকে কতটা ভালো ছবি এঁকে দিতে পেরেছেন। তাই ভবিষ্যতে সঠিক প্রতিযোগী হতে হলে চাই ছবিতে নিজস্বতা। চারিদিকে এইসব বসে আঁকো প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট সেকেন্ড হবার চক্করে ছোটরা একে অন্যের থেকে ভালো করার চেষ্টায়
ছবিমেলা
নিজের সবথেকে সেরাটা তুলে ধরতে ভুলে যাচ্ছে। তাই শিশু মনে প্রতিযোগিতা নয়, নয় রেষারেষি, নিজের সেরাটা তুলে ধরতে হবে এই চিত্রকলা প্রদর্শনীতে। ফলে একটা সময় প্রত্যেকের ছবি হবে সেরা। প্রত্যেকের ছবির মধ্যে থাকবে নতুন কিছু। আগামী জানুয়ারি ২০২৫ এ এই চিত্রকলা প্রদর্শনী একুশ বছরে পদার্পণ করবে। পরবর্তী সময়ে এই চিত্রকলা প্রদর্শনীর নামকরণ করা হয় 'ছবিমেলা'। কলকাতা, কলকাতার বাইরে এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও আজ আমাদের অনেক ছাত্রছাত্রী যারা প্রদর্শনী করে তাদেরও প্রথম চিত্রকলা প্রদর্শনী অঙ্কনতীর্থের এই ছবিমেলা এই তারকেশ্বরে। বর্তমানে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা শিল্পকলার বিভিন্ন কাজকর্মের সাথে যুক্ত। কিংকর ব্যানার্জি বর্তমানে জি বাংলার আর্ট এডিটর। ডেকরনি কোম্পানিতে চাকরি করছে অনেকে। বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করছে রাজ্যে বা রাজ্যের বাইরে। এছাড়াও বিভিন্ন শিল্পকর্ম যেমন টেক্সটাইল, ইনটেরিয়র ডেকোরেশন, থিমের প্যান্ডেল, প্রতিমা শিল্প, সাইনবোর্ড ফেস্টুন এর ডিজাইন তৈরী বা কেউ এলাকায় ছবি আঁকা শেখানোর স্কুল করে জীবিকা
শিল্প কর্মশিবির
নির্বাহ করছে এবং সব থেকে বড় পাওনা বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী আর্ট কলেজ পাশ করার পরও ছবি আঁকছে এবং প্রদর্শনী করছে। সব মিলিয়ে অঙ্কনতীর্থের পক্ষ থেকে আমি সৌমেন দাশ মনে করি ছবি আঁকা থেকে যারা এগিয়ে যেতে চায় তাদের সঠিক পথের দিশা দেখাতে পারছি । সংস্থার সাথে যারা বর্তমানে যুক্ত তারা তাদের ভালোলাগা বা খারাপ লাগাগুলো উপরের whatsapp বোতাম টাচ করে জানাবেন। ভালো লাগার থেকেও মন্দ লাগা জানানো একান্ত জরুরী। সেখান থেকে জানতে পারবো এবং চেষ্টা করব সেগুলো সংশোধন করার।