নিজস্বতা

নিজস্বতা

Jun 04, 2024

ছবি- সৌমেন দাশ (মাঝে কাঠ খোদাই মাধ্যমে ও সাইডের দুটি ছবি ক্যানভাসে এক্রেলিক মাধ্যমে আঁকা ছবি)

কিছু ছোট ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও দেখা যায় তারা কখনো নিজে থেকে স্যার পারছিনা এ কথা বলে না। একদম কাজটা নিজের মতো কমপ্লিট করে তারপরে দেখায়। তারপর যেটুকু ঠিক করার প্রয়োজন হয় করে দেওয়ার পর কাজটা কমপ্লিট হয়ে যায়। আবার কিছু ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে দেখা যায় একটি বা দুটি লাইন টেনেছে বা টানেনি প্রথমেই স্যার পারছি না! এই পারছি না টা মাথার মধ্যে একদম দৃঢ়ভাবে বসিয়ে ফেলে। মজার কথা যখন বলি তুমি চেষ্টা করো আমি ভুল হলে কারেকশন করে দেবো। তখন একজন দুজন নয় অনেকের কাছেই এই উত্তর পেয়েছি স্যার চেষ্টা করতেও পারছি না। এই অভ্যাসটা শুধু ছোটদের নয় বড়দের মধ্যেও দেখা যায়। আমি কতটা পারছি, কতটা পারবো দেখি না করে এই ভাবনাটা তাদের আসে না। শুধু মনের মধ্যে একটাই কথা আসে কখন স্যার আসবেন কাজটা কারেকশন করে দেবেন। যাইহোক ছাত্রছাত্রী বহু রকম ক্যাটাগরির হয় এবং সেই অনুযায়ী তাদের শেখানোর চেষ্টা করাই শিক্ষকের লক্ষ্য থাকে। তবে যেকোনো কিছু শেখার মূল মন্ত্রই চেষ্টা এবং অভ্যাস। প্রতিটা শিল্পকলার মতোই ছবি আঁকায় যতক্ষণ না নিজস্বতা তৈরি হয় ততক্ষণ পর্যন্ত সে ছবি তোমার নয়। তাই যারা ছবি দেখে আঁকছে বা অন্য কারোর স্টাইল রপ্ত করছে তাদের নিজস্বতা আসতে অনেক সময় লেগে যাবে অথবা কোনদিনই আসবেনা। আর যারা ওই নিজের মতো করে করতে থাকে, ছবি খুব খারাপ হয়, রং ঘষাঘষা লাগে কিন্তু এভাবে করতে থাকলে একটা সময় সম্পূর্ণ আলাদা একটা নিজস্বতা বা নিজের স্টাইল তৈরি হয়। সেটা কতদিনে এটা বলা সম্ভব না। কারও দু'বছর কারও দশ বছর, কারোর বিশ বছরও লাগতে পরে। আবার কেউ সারা জীবনেও নিজের স্টাইল তৈরি করতে পারেনা। কিন্তু তা বলে লক্ষ্য যদি হয় স্টাইল তৈরি করা তাহলে আবার ছবি হবে না। তাই ছবি হতে হলে নিরলস নিজের মতো ছবি আঁকা অভ্যাস আবশ্যিক। বিভিন্ন উপায়ে বিষয়টির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করানোই প্রকৃত শিক্ষকের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে থাকে।