অনেক লড়াইয়ের পর প্রকৃত লড়াই শুরু হয়।
nature potrait

অনেক লড়াইয়ের পর প্রকৃত লড়াই শুরু হয়।

Nov 04, 2024

সৌমেন দাশ

 

সুরোজ তখন খুব ছোটো। একদিন সুরোজের মা ক্লাসে এসে বললেন, 'স্যার সুরোজ একদম পড়াশোনা করছে না। ও বলেছে সৌমেন স্যার তো চাকরি করে না, আমিও চাকরি করবো না, পড়াশোনাও করবো না, শুধু ছবি আঁকবো, আর্ট কলেজে যাবো। ঠিক কোন ক্লাস থেকে ছবি আঁকতে আসতো মনে নেই তবে প্রাইমারি স্কুল থেকেই আসতো এটুকু মনে পড়ে। যাইহোক ওকে বোঝালাম। একসময় আমিও ভেবেছিলাম যে, একবার আর্ট কলেজে চান্সটা পেয়ে গেলে আর পড়াশোনা করতে হবে না শুধু ছবিই আঁকবো। আর্ট কলেজে চান্স পাবার পর সেই ধারণা একেবারে বদলে গেল। ওরে বাবা! এখানে আবার বাংলা ইংলিশ রয়েছে কম্পালসারি, হিস্ট্রি অফ আর্টও আছে। দ্বিতীয় বর্ষ থেকে শুরু হলো হিস্ট্রি অফ আর্ট এবং নন্দন তত্ত্ব, শিল্পের দর্শন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে চর্চা। পড়াশোনা তো করতেই হবে, ছবি আঁকাটা পড়াশোনার বাইরে নয় এবং এটাও গ্যাজুয়েশন কোর্স, মাস্টার ডিগ্রী কোর্স। ছোটবেলায় সব ধারণা থাকার কথা নয়। কারণ আমাদের এলাকায় ছোটো থেকে ছবি আঁকা মানে প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট হবার বাইরে আর কিছু দেখিনি। এখনো বেশিরভাগ আঁকার শিক্ষকরা এই নিয়েই মাতামাতি করেন। যাক সুরোজ ধীরে ধীরে নিজেকে খুব সুন্দর তৈরি করতে থাকলো ছবি আঁকায়। কিন্তু অনেকের মতোই মুশকিল হল ক্লাস নাইনে উঠে। সুরোজ ক্লাসে একদিন জানালো 'স্যার, রবিবারটা খুব অসুবিধা হচ্ছে, ওই সময়ই প্রাইভেটের স্যার পড়াবেন। যদি আঁকার টাইমটা চেঞ্জ করেন খুব ভালো হয়। কিন্তু স্পেশাল ক্লাসের ব্যাচ একটাই। তাই আমার পক্ষে ব্যাচের টাইম চেঞ্জ করা সম্ভব হয়নি। অনিচ্ছা সত্ত্বেও সুরোজের আঁকার ক্লাস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। প্রায় মাধ্যমিকের পর যখন সুরোজ ক্লাসে আসলো দেখলাম ওর সেই সুন্দর ছবি আঁকার দক্ষতা একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। আমি ওকে বললাম আবারো তো ইলেভেন হবে, আবারও অন্য কোনো টিচার এই সময় তোমাকে পড়াবেন। আগে পড়া ঠিক করে যদি এই সময়টা ফাঁকা রাখতে পারো তাহলেই ক্লাসে আসা ভালো।' তখন সুরোজ একটু বড়ো হয়েছে, বলল না স্যার, আঁকার ক্লাসের এই সময় ফাঁকা রেখেই যদি কোনো টিচার পড়ান তবেই আমি সেই টিচারের কাছে পড়বো। যাইহোক আবার সুরোজের আঁকার ক্লাস শুরু হল। কিন্তু সেই ঘাটতি আজও পূরণ হয়নি। ইতিমধ্যে সুরোজ বিশ্বভারতীতে চান্স পেয়ে দু'বছর টেক্সটাইলে ডিপোমা কোর্স করেছে। ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজে চান্স পেয়েছিলো ২০২২ সে। কিন্তু ওর সেই স্বপ্ন। গভারমেন্ট আর্ট কলেজে পড়বো' পূরণ হলো ২০২৩ এ। নিজেকে এতটাই তৈরি করেছে তেইশে গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজ এবং বিশ্বভারতী (শান্তিনিকেতন, কলাভবন) দুজায়গায় চান্স পেয়ে গেল। ভর্তি হলো গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজে। এইবারই শুরু হলো ওর প্রকৃত লড়াই।