পরীক্ষক হবার আর সাহস দেখায় নি

Apr 03, 2024

 

সেবার আঁকার পরীক্ষক হিসেবে এলেন বহুমুখী প্রতিভার এক মহামানব। যা কয়েক মাস আগে থেকেই আমাদের আঁকার শিক্ষকের কাছে শুনে আসছিলাম। সেই দিন এসে গেল আর সামনে থেকে দেখছি, একেবারে সামনে সেই মহা মানবকে যার বহুমুখী প্রতিভা। উনি নাচ বোঝেন, গান বোঝেন, ছবি, ডান্স আরো যা যা আছে সবই বোঝেন এবং সব বিষয়ে পারদর্শী। এমন মানুষকে সত্যি চোখের সামনে দেখা সৌভাগ্যের বিষয়। বেশ রসিক মানুষ। সকলের সাথে হাসিখুশি আনন্দে সারাদিন কাটালেন। দু এক মাস পরে রেজাল্ট বেরোলো। মোটা- মুটি ৬০% স্টুডেন্ট ৮০ শতাংশের উপরে নাম্বার পেয়েছিল। তারপরও সেই বহুমুখী প্রতিভাধর পরীক্ষক কয়েকবার এসেছিলেন পরীক্ষা নিতে।

primitiveness/Wood carving art /SAUMEN DAS 

এই ঘটনার প্রায় ১০-১২ বছর পর আমিও নিজের সেন্টার নিই সেই বিশেষ সংস্থা থেকেই। দু এক বছর পরীক্ষার পরেই আমার সাথে সেই পরীক্ষা সেন্টারের কর্মকর্তাদের একটা ভালো সম্পর্ক হয়ে গেল। আমাকেও পরীক্ষা নিতে হবে এরকম কথাবার্তা হল। জানালেন সেখানে আঁকার পরীক্ষা দিচ্ছে ৭২ থেকে ৮০ জন, গানের আছে দশ জন, তবলায় আছে ৭-৮ জন, আবৃত্তিতে পাঁচজন, নৃত্যে ২৫ জন মতো। আমাকে এদের সকলের পরীক্ষা নিতে হবে। আমি তো শুনে আকাশ থেকে পড়লাম! ছবিটা আমার বিষয়, আমি পরীক্ষা নিতেই পারি। কিন্তু বাকি গুলো! তখন আমাকে হাসতে হাসতে জানালেন আপনাকে দেখতে অভিজ্ঞ লাগে স্যার, আপনার চিন্তা নেই আমরা বলে দেবো বহুমুখী প্রতিভাধর একজনকে পাঠাচ্ছি। সে নয় হলো কিন্তু গানের পরীক্ষা যখন নেব আমি কি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবো। এ বিষয়ে আমার তো কোনো ধারণা নেই। বললেন সব প্রশ্ন রেডি করা আছে আপনি প্রশ্নপত্র দেখে দেখে প্রশ্ন করবেন আর উত্তর যা দেবে বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়বেন। শুধু অ্যাবসেন্ট যেগুলো মার্ক করবেন, বাকি আমরা বুঝে নেব। সেই দিন আমার সেই ছোটবেলার বহুমুখী প্রতিভাধর ব্যক্তির কথা মনে পড়ছিল। জানিনা তিনি কতটা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তবে মানুষটি খুব হাসিখুশি ছিলেন, সে কথা খুব মনে পড়ে। আমি অবশ্য পরে বিশেষ কারণ দেখিয়ে সেই পরীক্ষা নিতে যাইনি। আর তারপরে কোনোদিনই পরীক্ষক হয়ে পরীক্ষা নিতে যাওয়ার সাহস করিনি।