প্যাস্টেল রঙে আঁকা তেল রঙের মতো ছবি।

প্যাস্টেল রঙে আঁকা তেল রঙের মতো ছবি।

Mar 23, 2024
প্যাস্টেল রঙ- কে আমরা সাধারণত ছোটদের আঁকার রঙ বলে মনে করি। এমনকি ছোটরাও মনে করে আমরা এখন ছোট তাই এই প্যাস্টেল রঙ এ আঁকছি। বড় হলে আমরা জল রঙ, তেল রঙ ইত্যাদি রঙ-এ ছবি আঁকবো। কিন্তু প্যাস্টেল রঙ যদি ভালো হয় তাহলে সেই রঙ দিয়ে একেবারে তেল রঙ এর মতো ছবি আঁকা যায়। ভালো প্যাস্টেল রঙ বলতে মোটামুটি নরম এবং একটি রঙের ওপরে আরো একটি রঙ চাপানো যাবে এমন । পর্যায়ক্রমে দুটো, চারটে, পাঁচটা, ছটা কালার পরপর ওপর ওপর চাপানো যাবে সেই রঙকে আমরা ভালো প্যাস্টেল রঙ বলি। 'তবলা বায়া' ছবিটি ক্যামেল কোম্পানির প্যাস্টেল রঙে আঁকা। তখন প্রথম বর্ষ গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজে সবেমাত্র চান্স পেয়ে ভর্তি হয়েছি। ছবিটি স্টিল লাইফ। স্টাডি ওয়ার্ক। কলেজ থেকে ফিরে রাত্রি আটটায় কাজে বসতাম। দশটায় রাতের খাবার খেয়ে আবারো বসতাম রাত্রি একটা, দেড়টা বা দুটো যেদিন যতটা পারতাম। এভাবে পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লেগেছিলো ছবিটি আঁকতে। সে সময় সকাল পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠতে হতো। রেডি হয়ে ৭:০৫ এর ট্রেন ধরতে হতো দশটার মধ্যে গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজে পৌঁছানোর জন্য। যদিও এভাবে বেশি দিন পারিনি, শরীর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ফলে আর্ট কলেজের হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা হল। গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের হোস্টেল টি ছিল বড়বাজার এলাকার মালা পাড়ায়। যদিও বেশি দিন হোস্টেলে থাকা হয়নি। দমদম ক্যান্টনমেন্টে 34C বাসস্ট্যান্ডের পাশে একটি মেসে কিছুদিন, তারপর দমদম স্টেশনের পাশেই তরুণ সংঘের বিপরীতে বহিরাগত কলোনিতে কম খরচের মধ্যে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত কমপ্লিট করি। প্রথম বর্ষে কলেজ এক্সিবিশনে আমার এই 'তবলা বায়া' ছবিটি সিলেক্ট হয় এবং 'Ravi Jain Memorial Scholarship' পেয়েছিলো। সে সময় স্কলারশিপের টাকাটি আমার ভীষণ কাজে এসেছিল পরবর্তী ছবি আঁকার বিভিন্ন উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে। সে সময় প্রথম বর্ষকে(Foundation) আলাদা করে দেখা হতো না। গ্রাজুয়েশনের তিনটি বর্ষের ছাত্র ছাত্রীদের সাথেই ফাউন্ডেশনের ছাত্র-ছাত্রীদের ছবি থাকতো। অর্থাৎ এখনকার মতো ফার্স্ট ইয়ারের প্রায় সকল ছাত্রছাত্রীর ছবি সিলেক্ট হতো না। সে বছর ফাউন্ডেশন এর দশ থেকে বারো জনের ছবি সিলেক্ট হয়েছিল এবং দুটি স্কলারশিপ একটি অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন এর ভাগ্যে এসেছিলো।