সাদা সাদা কালো কালো
ছবি ও লেখা- সৌমেন দাশ
রং সবাইকেই টানে। সাদাকালো জীবন কেইবা ভালোবাসে। জীবন সকলের রঙিন হোক এই শুভকামনা নিয়েই আজকের লেখার বিষয় সাদা কালো। সাদাকালো এর মধ্যে একটা একঘেয়েমি ব্যাপার থাকে অর্থাৎ মনোটোনাস। আমরা এই একটা রং ব্যবহার করে ছবি আঁকলে একে মনো কালারও বলে থাকি এবং সমস্ত রং ছেড়ে এই সাদাকালো রঙে ছবি আঁকার মজা পেতে একটু সময় লেগে যায়। লাল নীল হলুদ সবুজ এই বিভিন্ন রঙে যখন ছবি আঁকি তখন খুব সহজেই একটা অবজেক্টের সাথে আর একটা অবজেক্টকে আলাদা করতে পারি বা আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু যখন একটি রঙ আমার হাতে আছে সেই একটি রঙে একটা ছবির সমস্ত অবজেক্টগুলোকে আলাদা আলাদা ভাবে চিহ্নিত করা ব্যাপারটা সহজ নয়। এখানে লক্ষ্য রাখতে হয় কালারের ডিপ ও লাইটের দিকে অর্থাৎ ডিপ রং ও

Mermaid-2 Acrylic on Canvas
লাইট রং এর মাধ্যমে সমস্ত অবজেক্ট বা বস্তুগুলোকে আলাদা করতে হবে । এক্ষেত্রে লাইট এবং চূড়ান্ত লাইট অর্থাৎ আলো ছায়াকে ভীষণভাবে গুরুত্ব দিতে হয়। আলো ছায়া সম্পর্কে যথেষ্ট ভালো জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। তবেই সাধারণ ছবি জমে উঠবে। অর্থাৎ সুন্দর হবে, সুন্দর লাগবে। কিন্তু ছোটরা সাধারণত এই সাদা কালোতে মনোযোগ দিতে পারে না। তাদের চাই অনেক রং, কেননা রং মানুষকে আকৃষ্ট করে। শুধু মানুষ নয় কীটপতঙ্গকেও রং আকৃষ্ট করে। তাই ছোটবেলায় রং দিয়েই ছবি আঁকা শুরু করার আবশ্যিক। কিন্তু নিরলস ছবি আঁকা চর্চায় একটা পেন্সিলই যথেষ্ট সেটা বুঝতে একটা সময় প্রয়োজন হয়। ট্রান্সপারেন্ট বা স্বচ্ছ জলরঙে শুধুমাত্র কালো রং ব্যবহার করেই আমরা সাদা কালো ছবি এঁকে

Mermaid-3 Acrylic on Canvas
থাকি। সাদা হিসাবে এখানে পেপার হোয়াইট কে কাজে লাগাতে হয়। কালো রং শুধুমাত্র আলোর বিপরীতে অন্ধকারটুকুকে ধরতে ব্যবহার করা হয়। ডার্ক আরো ডার্ক এইভাবে লাইট থেকে ধীরে ধীরে ডিপে যাওয়া অথবা প্রথমেই ডিপ চাপিয়ে জলের সাহায্যে মিশিয়ে লাইটের দিকে আসা এই দুটোই পদ্ধতি সাধারণভাবে দেখা যায়। এ ধরনের কাজ করা সহজ তখনই হবে যখন কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে স্টাডি করবে। আলোছায়ার বিষয়টা সঠিকভাবে লক্ষ্য করতে পারবে এবং ছবিতে সঠিক আলোছায়ার প্রয়োগ করতে পারলেই এই সাদা কালো অথবা মনো কালারের কাজ করা

Mermaid-4 Acrylic on Canvas
সম্ভব। সাদা কালো কাজ করলে রঙের ঘনত্ব অর্থাৎ ডিপ লাইট রঙের প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা জন্মায়। রঙিন ছবির ক্ষেত্রে আমরা লালের পাশে হলুদ, সবুজর পাশে নীল ইত্যাদি ব্যবহার করে সহজেই দুটো বস্তুকে আলাদা করে দিই । কিন্তু এত রং ব্যবহার করার পরেও ছবি সেরকম উজ্জ্বল লাগে না, তার একমাত্র কারণ আমরা কনট্রাস্ট বুঝতে পারি না। কেননা লালের পাশে নীল দুটোই মিডিয়াম টোনের রং, এরা পরস্পর কন্ট্রাস্ট তৈরি করতে পারে না। বা বাদামি রঙের পাশে যদি লাল দেওয়া হয় দুটো রঙ পরস্পর কন্ট্রাস্ট তৈরি করতে পারে না। কিন্তু লালের পাশে যদি ইয়োলো ব্যবহার করা হয় সেক্ষেত্রে কিন্তু কনট্রাস্ট তৈরি করে এবং পরস্পরকে দেখতে সাহায্য করে। অথবা যেটা করতে হয় সেটা হচ্ছে রঙের ঘনত্বের পরিবর্তন করতে হয় অর্থাৎ একটাকে গাঢ় এবং একটিকে
Mermaid-5 Acrylic on Canvas
হালকা করে ব্যবহার করা। মনো কালার এই রঙের গাঢ় এবং হালকা বিষয়টিকে যথেষ্ট বুঝতে সাহায্য করে। তাই যারা মনো কালার প্র্যাকটিস করে তাদের রঙিন ছবিও পরবর্তী সময়ে উজ্জ্বল হয়। এবং ছোটরা যদি এই সাদাকালো রঙে ইন্টারেস্ট পায় সেই লক্ষণ ভালো।