শিল্পী ও কারিগর
কারিগর ও শিল্পী এই দুজনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল কারিগর গড়েন, শিল্পীও গড়েন কিন্তু এই গড়ার মধ্যে আছে সৃষ্টির অনাবিল আনন্দ। কারিগরের গড়ার সময় যে চিন্তাগুলো থাকে সেই চিন্তার সাথে শিল্পীর চিন্তাগুলো অন্যরকম। কারিগর যেমন ভাবেন এই শিল্পদ্রব্য করতে আমার কতটা সময় লাগতে পারে। যে মেটেরিয়ালস ব্যবহার করা হবে সেই মেটেরিয়ালস এর দাম কত এবং যে এই কাজ করবে তার পারিশ্রমিক কত। কত টাকা দাম রাখলে ক্রেতা সহজেই কিনতে চাইবে এবং শিল্পকর্ম বা কাজটি বিক্রি হওয়ার পর কত টাকা লাভ হবে, এই হিসেবটি তাকে করতেই হয় এবং এটা স্বাভাবিক। কিন্তু একজন শিল্পী যখন কাজ শুরু করেন তার আগে কোনো রূপ তাঁর মনের ভিতর আবির্ভূত হয় অথবা কাজ চলতে চলতে বারবার রূপের পরিবর্তন ঘটে, কোথায় শেষ হবে তা যেন সেই কাজটাই নির্দেশ করবে এবং শিল্পী অনুভব করবে কাজটি শেষ হয়েছে। কাজ শুরু থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনো হিসেবেই থাকেনা। কত টাকার মেটেরিয়ালস, কতটা সময়, কত টাকা পারিশ্রমিক এসব হিসাব শিল্পী কাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাখেন না। কাজ শেষ হবার পর মনের দেখার সাথে কাজের মিল পেলে শিল্পী স্বর্গ সুখ অনুভব করেন। তারপর সেই কাজের মূল্য নির্ধারণ করেন ঠিকই কিন্তু বিক্রির অপেক্ষায় বসে থাকেন না। আবারও কোনো রূপ মনে ভেসে উঠলে নতুন কাজ শুরু হয়। কোনো শিল্পী বলতে পারেননা জীবনের সব কাজ বিক্রি হয়ে গেছে। বিখ্যাত শিল্পীর মহা মূল্যে ছবি বিক্রি হয় ঠিকই কিন্তু সব ছবি তো বিক্রি হয় না বা ২০টা কাজ আছে এগুলো বিক্রি হলে তারপরে আবার কাজ করব এই দোকানদারি মনোভাব শিল্পীর কখনোই থাকতে পারে না।
লেখা ও ছবি- সৌমেন দাশ