শিশুর সরলতায় গরল

শিশুর সরলতায় গরল

Jun 06, 2024

ছবি- মঞ্জিরা মাইতি (ক্লাস-i) 

 

ছবির রং বেরিয়ে যাচ্ছে তাই ছবিতে নাম্বার কম হচ্ছে এবং টোটালেও নাম্বার কম হচ্ছে। ফলে রেজাল্টটা পিছিয়ে যাচ্ছে। রং যাতে বেরিয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য প্রাইভেটের অঙ্কন শিক্ষককে বলেন অভিভাবক। কেননা স্কুলে এজন্য নাম্বার কাটা যাচ্ছে। কিন্তু রং বেরিয়ে যাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। কিসে পড়ে KG-1 ,KG-2 বা ক্লাস ওয়ান। হ্যাঁ, এদের ছবিতে রঙ বেরিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কেননা তাদের কাঁচা হাত কাঁচা মন সেভাবে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস হয়নি। রং বেরিয়ে যাতে না  যায়  এটা  শেখানোর  কিছু নেই।

Nostalgia

তখন কি শেখানো হয় - 'এই রং বেরিয়ে যাচ্ছে কেন?  রং যাতে না বেরোয় লক্ষ্য রাখো। এবার রং বেরিয়ে গেলে মারবো কিন্তু। দেখে করতে পারছো না, ঠিক করে রঙ ঘষো বলে দিচ্ছি ইত্যাদি বলে  যাওয়া।' তাতে হয়তো একটু রং কম বেরোবে, কিন্তু এই পদ্ধতিতে ছবি আঁকার এনার্জি হারাবে। কদিন পরে ভালো লাগবে না ছবি আঁকতে। একটু বড় হলে ছবি আসবেই না। বলবে পড়াশোনার চাপ ছবি আঁকার সময় পাচ্ছি না। আসলে ভালোলাগা না থাকলে আমরা সেই সব জিনিসে সময় পাই না। অথচ স্কুলের অঙ্কন শিক্ষক রং বেরলেই কেটে দিচ্ছেন। আর স্কুলের শিক্ষকের কাছে আঁকলেই তাকে নাম্বার দিয়ে দিচ্ছেন। ক্লাসে সেই সব ছাত্রদের স্নেহের সাথে খাতায় ছবি এঁকে দিচ্ছেন। আর যে সকল ছাত্র স্কুল শিক্ষকের কাছে ছবি আঁকে না তাদেরকে ক্লাসে তাচ্ছিল্য করেন , তার ছবি নিয়ে হাসাহাসি করা, বলেন কোথায় আঁকিস বলতো? তোর আঁকার স্যার কি তোকে এগুলো শেখাতে পারেন না। আর অঙ্কনতীর্থের নাম শুনলেই বিরক্ত আরও কয়েক মাত্রা বেড়ে যায়। অথচ তারকেশ্বরের একটি স্কুলেও শিক্ষিত আর্ট টিচার নেই, যারা ছবি আঁকায় গ্রাজুয়েশন অথবা মাস্টার ডিগ্রী করেছেন। ইতিহাস ভূগোল অঙ্ক বিজ্ঞান সাবজেক্টের শিক্ষক হতে হবে শিক্ষিত, অন্তত গ্রাজুয়েশন টুকু পাস করা দরকার স্কুলের শিক্ষকদের। কিন্তু ছবি আঁকার শিক্ষক! তারকেশ্বরের স্কুলগুলো কি ধরনের আঁকার শিক্ষক চায় জানুন। ছোটবেলায় কিছুদিন ছবি এঁকেছে তারপর যাদের পড়াশোনার চাপের অজুহাতে ছবি আঁকা বন্ধ হয়ে গেছিলো। পরবর্তী সময়ে  পড়াশোনা  করেও কিছু  করতে  পারেননি।

Kids

তাই ছবি আঁকা শেখাতে শুরু করেছেন। কেন এই ধরনের শিক্ষক খোঁজেন-  ১. এদের অল্প মাইনে দিয়ে রাখা যায়। ২. স্কুলের সব রকমের কাজ আঁকার শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়ে করিয়ে নেওয়া যায়। ৩. প্রজেক্ট এর নাম করে নানা রকম ডেকোরেশন এর কাজ স্কুলের শিক্ষকের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৪. পুজো ,বিভিন্ন অকেশন ,গেম ,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবকিছুর ডেকোরেশন আঁকার শিক্ষককে দিয়ে করিয়ে নেওয়া যায়। আর এই ধরনের আঁকার শিক্ষকেরা এই অল্প মাইনেতেই রাজি হয় তার কারণ স্কুলের অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রী স্কুলের আঁকার শিক্ষকের কাছেই ছবি আঁকা শিখবে। আর অভিভাবক অভিভাবিকা যেটা দেখতে পায় সেটা হল নাম্বার। আর আঁকার খাতায় রং বেরিয়ে যাওয়া বা স্যারের কেটে দেওয়া। এত প্রতিবন্ধকতার পরেও আমরা যখন শেখাতে চাই তখন খুব কম অভিভাবক অভিভাবিকা বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং তাদের সহযোগিতা পাই। আর বেশিরভাগ অভিভাবক অভিভাবিকা বুঝতে পারেন না, বুঝতে চান না, তাই কিছুদিন পর অঙ্কনতীর্থে আসা বন্ধ করে । আমি বোঝাবার চেষ্টা করি মাত্র তবে যারা বোঝেন না তারা একটা সময় পর আসা বন্ধ করে দেন। আমিও এটাই চাই ছোটদের কখনোই জোর করে একটু না করাতে। অন্তত ছবি তো নয়। ছবিটা ভালোবাসতে শেখাবো। ছবি তো ধ্যান। ধ্যান করলে যা উপকার হয় ছবিতেও তাই হয়। ধীরে ধীরে যোগ অভ্যাস। আমি বারবার বলি যাদের নাম্বার প্রয়োজন তারা অবশ্যই স্কুল শিক্ষকের কাছে আঁকা শেখান।_______________________________সৌমেন দাশ