শুভময় কুন্ডু
ক্লাসে একই কাজ দেখানোর পরেও প্রত্যেকের কাজে নিজস্বতা লক্ষ্য করা যায়। নিজস্বতাই অঙ্কনতীর্থের মূল বৈশিষ্ট্য । শুভময় এর প্রতিটি কাজে সেই নিজস্বতাই দেখা যায়।
একটা ছবি পেলে দেখে এঁকে ফেলার ইচ্ছা ছোট বড় সকলেরই হয়। বিশেষ করে যারা খুব অল্প দিন ছবি এঁকেছে বা আঁকছে এই প্রবণতা তাদের বেশি।

এখানে ছোট-বড় বা বয়স্ক ব্যাপার নয়, ছবি আঁকা চর্চায় এটা শৈশবের লক্ষণ অর্থাৎ এটা শিশু সুলভ আচরণ এবং এটা স্বাভাবিক। সঠিক শিল্পচর্চা ধীরে ধীরে ভেতরকার এই প্রবণতা পরিবর্তন করতে থাকে। চাক্ষুষ দেখা ব্যবহারিক নানা

জিনিস বা প্রকৃতির মধ্যে থাকা নানা বস্তু, ব্যক্তি আঁকার ইচ্ছা ও তার সাথে মনের বা ভাবনার চোখ দিয়ে দেখা নানা ছবি ধরা পড়তে থাকে তার চর্চায়। শুভময়ের ছবি আঁকা চর্চায় তাই দেখতে পাচ্ছি। শুভময় কুন্ডু ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, বাড়ি পতিহারপুর গ্রামে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান শুভময়।

দুষ্টু ও মিষ্টি এই ছেলেটি খুবই ছোট থেকে অঙ্কনতীর্থের ছাত্র এবং প্রথম থেকেই ওর মধ্যে একটা নিজস্বতা লক্ষ্য করা গেছে। যদিও বেশ কয়েক বছর অন্য যে কারোর আঁকা ভালোলাগা ছবি হুবহু কপি করার প্রবণতা ছিল, এখনো আছে কিছুটা। কিন্তু তার সাথে লক্ষণীয় বিষয় যেটি সেটা হল ওর ছবিতে ফুটে উঠছে ওর চারপাশ। ছবিতে

দেখা যায় কখনো ঘরের ভিতর, কখনো ওর ভাইকে বা মা যখন চাদর পাতছেন বিছানায়, দেখা যায় ওর বাড়ির চারপাশের পরিবেশ এবং বেশ কিছু ছবিতে ওর মনের ভাবনাও প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণীর এই শুভময়। ড্রইং ও রঙেও বিশেষ দক্ষতা প্রকাশ পেয়েছে ওর ছবিতে। শুভময় এর পরিবার প্রতিমা শিল্পের সাথে যুক্ত, ফলে এই ছোট থেকেই কাদা মাটি ও রং ঘাটাঘাঁটির একটা সুযোগ পেয়েছে। যদিও সমস্ত প্রতিমা শিল্পের সাথে যুক্ত পরিবারের ছোট সদস্যরা

এই সুযোগ পেয়ে থাকে কিন্তু সকলের ছবি আঁকার এই দক্ষতা দেখা যায় না, যেটা শুভময়ের মধ্যে ছোট থেকেই দেখা গেছে। শুভময়ের বাবা এবং মায়ের মধ্যেও ওর ছবি আঁকাকে যথেষ্ট গুরুত্ব

দিতে লক্ষ্য করা যায়। পতিহারপুর লোকনাথ রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় দু কিলোমিটার পূর্বে। প্রথমত লোকনাথের অঙ্কনতীর্থের ক্লাস আলিগড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুভময় আঁকতে শুরু করে।

পতিহারপুর প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শ্রী অমিত শংকর মাইতির যোগাযোগে শুভময়ের অঙ্কনতীর্থে ছবি আঁকা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে অঙ্কনতীর্থের ক্লাস স্থান পরিবর্তন করে লোকনাথ স্টেশনের কাছেই অন্বেষণ প্যাথলজির দ্বিতলে শুরু হয়,

সেটাও শিক্ষক অমিত শংকর মাইতির একান্ত ইচ্ছায়। বিগত বছরগুলিতে শুভময় ছবি আঁকার ক্লাস বাড়ির কাছাকাছিই ছিলো। সময়ের অভাবে ২০২৩ এর শুরুতে অঙ্কনতীর্থের লোকনাথ, গোপিনগর এবং রামনারায়ণপুর এলাকার ক্লাস গুলি বন্ধ হয়। কাছাকাছির মধ্যে রামনগর এলাকায় 2022 থেকে একটি ক্লাস শুরু হয়। কিছু ছাত্র-ছাত্রী রামনগর এলাকায় চলে আসে। শুভময় ও আয়ুষ্মান পদ্মপুকুর তারকেশ্বর অঙ্কনতীর্থের মূলকেন্দ্রে স্পেশাল ক্লাসে ক্লাস শুরু। বাড়ি থেকে ক্লাসের দূরত্ব যথেষ্ট হবার কারণে যাওয়া আসায় যথেষ্ট অসুবিধা হলেও প্রায় দেড় বছর বাড়ি থেকে এত দূরে এসে ক্লাস করছে। শুভময় বড় হয়ে দেশের ১০ জনের একজন হোক সবশেষে এই শুভ কামনা রইল।
শুভময় এর ছবি কেমন লাগলো উপরে বাম দিকে হোয়াটসঅ্যাপে ক্লিক করে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। ________সৌমেন দাশ