ভারতীয় শিল্পকলায় ভাবাবেগ
ছবি - কমলিকা বেগী, ক্লাস - v
ভারতীয় শিল্পীরা ইউরোপীয় রীতি অনুসরণ করেছে তা বলাই যায় তবু আপন সত্তা হারিয়ে যেতে দেয়নি। মানব দেহ আঁকার সময় ভারতীয় শিল্পীরা ভাবাবেগকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তাদের অঙ্কন শৈলীতে ছন্দ, তাল, মান ইত্যাদি যথাযথ রূপে ফুটে উঠেছে। যার ফলে নরনারী, দেবদাসী এবং দেবতা যথাযথ রূপ পেয়েছে। ছাত্রাবস্তায় মুখমণ্ডল আঁকার সময়ও ভাবাবেগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া বাঞ্ছনীয়। সুখ-দুঃখ, আনন্দ ক্রোধ, বিলাসিতা, বৈভব, চতুরতা, চোর বা গুন্ডা, ধর্মপরায়ণ, পন্ডিত যারই মুখ আঁকা হোক না কেন প্রথমত কতখানি সেই ব্যক্তিকে চেনা গেল তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তার ভাবাবেগ। মুখমণ্ডলে চোখ গুরুত্বপূর্ণ, চোখ দিয়েই প্রধানত বোঝা যায় বা চেনা যায় মানুষকে। তারপরে লক্ষ্য দিতে হবে হাসিমুখে দাঁত আঁকা। নিখুঁত করে প্রতিটা দাঁত ধরে ধরে আঁকতে গেলেই মুশকিল হয়। ছবি আঁকার সময়ে প্রতিটা অংশ নিখুঁতভাবে দেখতে হয় কিন্তু যখন একটা মানুষের দিকে দেখি তখন বেশি সময় তার চোখের দিকেই তাকাই। ছবি আঁকার সময়ে যখন নিখুঁতভাবে চারিদিক দেখি এবং ছবিতেও সবটা নিখুঁতভাবে আঁকতে চাই তখনই একটা গন্ডগোল বাঁধে। শুধু এইটুকু জ্ঞান অর্জন হলেই মুখমণ্ডলের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরা সম্ভব। তা হলো কোন অংশ কতটুকু ধরবো বা কোন অংশ কতটা নিখুঁত করবো। কোন অংশ হালকা বা কোন অংশ ডীপ করতে হবে। রঙের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে আঁকলে চূড়ান্ত আলো ধরার জন্য কাগজের সাদা রং ফাঁকা রাখতে হবে। অস্বচ্ছ উপায়ে রঙ করলে সেখানে পরে সাদা চাপিয়ে চূড়ান্ত আলো ধরা হয়।
লেখা - সৌমেন দাশ